বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘আল-খারেজমী সায়েন্স ফেস্ট ২০২৫’। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বিজ্ঞান উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আহনাফ আবির আশরাফুল্লাহর বড় বোন অ্যাডভোকেট সাইদা আক্তার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এবং উপস্থাপনা করেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক ডা. নাঈম তাজওয়ার।
স্বাগত বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে হলে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই, আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সীমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ছাত্রশিবির ধারাবাহিকভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চা এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে টেকসই করতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন অপরিহার্য। সঠিক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব পেলে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব উদ্ভাবনে মনোযোগ দিতে পারবে। নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমেই একটি জাতি অগ্রসর হয় এবং বিশ্বদরবারে মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান নিতে পারে।
সরকার যদি দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়, তাহলে বাংলাদেশ নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ছাত্রশিবির সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী মেধার বিকাশ ঘটিয়ে বিজ্ঞানমনস্ক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায়, যারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দুই দিনব্যাপী এই বিজ্ঞান উৎসবে ম্যাথ অলিম্পিয়াড, প্রজেক্ট ডিসপ্লে প্রতিযোগিতা এবং ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ (সিটিএফ)সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি সবার জন্য উন্মুক্ত পাবলিক অ্যাক্টিভিটি জোনে লাইভ সায়েন্স ডেমোনস্ট্রেশন, রোবোটিকস ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী, সায়েন্স গেমস ও কুইজ এবং ইয়ুথ ইনোভেশন শোকেসের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক ডা. রিফাত মাহবুব, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, গবেষণা সম্পাদক মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া শিক্ষাবিদ, গবেষক, উদ্ভাবক, অভিভাবক এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।







