কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে নিজ ভাইয়ের হাতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। তবে এই পারিবারিক হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে ‘জামায়াতের হামলা’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপিঘনিষ্ঠ একাধিক আইডি ও পেজ থেকে এমন অসত্য তথ্য ছড়ানো হলেও পুলিশ ও স্থানীয়রা একে নিছক জমি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মাহমুদুর রহমান কামাল কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় তার ছেলে কাকনও (১৮) গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে কামালের সঙ্গে তার বড় ভাই ও স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে কামালের সঙ্গে জালাল উদ্দিনের জমি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধলে জালাল উদ্দিনের পক্ষের টেঁটার আঘাতে কামাল ও তার ছেলে কাকন গুরুতর জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামালের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান জানান, এটি সম্পূর্ণ দুই ভাইয়ের জমি বণ্টন সংক্রান্ত পারিবারিক মারামারি। বড় ভাইয়ের আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। অভিযুক্ত জালাল উদ্দিনও জানান, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সকালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পারিবারিক একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর ওপর দোষ চাপিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে।
