শবেবরাত কেবল হালুয়া-রুটি কেন্দ্রিক কোনো উৎসব নয়; বরং এটি নিজের পরকাল গড়ে তোলার এক মহিমান্বিত সুযোগ। এ রাতের করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কিয়ামুল লাইল—অর্থাৎ রাতে নফল নামাজ আদায় করা, কোরআনে কারিম তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার, তাওবা ও ইস্তেগফার করা, কবর জিয়ারত করা এবং নিজের জন্য, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য গুনাহ মাফ চাওয়া। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে কান্নাকাটি করে রাত অতিবাহিত করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কাঁদো; যদি কাঁদতে না পারো, তবে অন্তত কাঁদার ভান করো।’ কেননা চোখের পানির চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু নেই। (তারগিব : ৩৩২৮)
এ রাতে বর্জনীয়
শবেবরাতে অকারণে ঘোরাফেরা করা, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, হইহুল্লোড় ও অযাচিত আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা পরিহার করা উচিত। একই সঙ্গে গাড়ি ভাড়া করে এক মসজিদ থেকে আরেক মসজিদে যাওয়া, বিভিন্ন মসজিদে দুই রাকাত করে নামাজ পড়া, কারো ঘুম বা ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং অতিরিক্ত খাবারদাবার—বিশেষ করে হালুয়া-রুটির উৎসবে পরিণত করাও বর্জনীয়।
তাওবার গুরুত্ব
মানুষের জীবন গুনাহে জর্জরিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো গুনাহের ওপর অটল থাকা এবং তাওবা না করা। এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে বারবার বান্দাকে তাওবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিক তাওবা করো। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মুছে দেবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সুরা তাহরিম : ৮)
আরেক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নুর : ৩১)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা যুমার : ৫৩)
এসব আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, গুনাহ করা মানুষের স্বভাবগত বিষয় হলেও তাতে স্থির থাকা মারাত্মক। আল্লাহ তায়ালা বারবার বান্দাকে ডেকে আশ্বস্ত করেছেন—খাঁটি তাওবা করলে তিনি সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। এমনকি কেউ মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ তার সারাজীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেন।
অতএব, এই মহিমান্বিত রাতের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। সন্ধ্যার আগেই নিজেকে পাক-সাফ করে, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে ইবাদতের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশায় নতুনভাবে জীবন গড়ার সংকল্প নিয়ে মসজিদমুখী হওয়া উচিত—ইনশাআল্লাহ।







