ইসরায়েলের প্রভাবশালী টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর অনুসন্ধানী প্রোগ্রাম ‘উভদা’ (Uvda)-তে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজেকে ইরানে সক্রিয় মোসাদ এজেন্ট হিসেবে দাবি করেছেন এক ব্যক্তি। ‘আরাশ’ ছদ্মনামে পরিচিত ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের ভেতর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল।
আরাশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ১৩ জুন ২০২৫-এর ভোরে ইরানের ভূখণ্ড থেকেই রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়। মূলত এই অভ্যন্তরীণ হামলাগুলোই পরবর্তীতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য আকাশপথ নিরাপদ করে দিয়েছিল। ওই দিন সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করেও অভিযান পরিচালিত হয়েছিল বলে তিনি জানান।
নিজের মোসাদে যোগ দেওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে আরাশ বলেন, ২০১৫ সালে ৩০ বছর বয়সে তিনি স্রেফ কৌতূহলবশত গুগলে ‘Mossad’ লিখে সার্চ করেন এবং তাদের ওয়েবসাইটে একটি বার্তা পাঠান। এর কয়েক দিন পরই মোসাদের এক কর্মকর্তা তার সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর তাকে বিভিন্ন দেশ এবং খোদ ইসরায়েলের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে উচ্চতর সামরিক ও গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের জুনে বড় ধরনের অভিযানের ঠিক আগে তাকে আবার ইরানে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তিনি একটি বিশেষ দলের নেতৃত্ব দিয়ে অভ্যন্তরীণ অপারেশনগুলো পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালীন নিজেকে “মোসাদের চোখ” হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, তেহরানের রাস্তায় অস্ত্রবোঝাই গাড়ি নিয়ে ঘোরার সময় তিনি ধরা পড়ার চরম ঝুঁকিতে ছিলেন। মিশন সফল হওয়ার পর তাকে বিশেষ পন্থায় ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রায় ৪০ বছর বয়সী এই এজেন্ট আরও জানান, ইরানের প্রচলিত শাসনব্যবস্থার প্রতি শৈশব থেকেই তার বিতৃষ্ণা ছিল। বিশেষ করে হিজাব না পরার অপরাধে তার বোনকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের পর তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
