জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর প্রগতি সরণিতে নিজ হাতে চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলামের পদোন্নতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নিলেন, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ২১ জুলাই প্রগতি সরণিতে আন্দোলন চলাকালে সরাসরি অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায় এডিসি নাজমুলকে। প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, তিনি নিজের জন্য নির্ধারিত রিভলভার বা পিস্তল নয়, বরং অন্যের নামে ইস্যু করা চাইনিজ রাইফেল দিয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছুড়ছেন। ওই এলাকায় তৎকালীন এডিসি জাহাঙ্গীরের কমান্ডে পুলিশের এই তাণ্ডব চলেছিল। তদন্তে জানা গেছে, ওই সময়ের টাওয়ার ডাম্পিং এবং সিডিআর (CDR) ভেরিফাই করে প্রগতি সরণিতে নাজমুলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক সিটিটিসি প্রধান ও কথিত ‘জঙ্গি নাটক’র কারিগর মনিরুল ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অফিসার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই নাজমুল। তাকে রামপুরা এলাকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তলব করেছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করার মাধ্যমে তিনি নিজের নাম রক্ষা করেছেন। এমনকি এই হত্যাকাণ্ড এবং পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়েছেন।

নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, ব্যক্তিগত অপকর্মের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে চিত্রনায়িকা মেহের আফরোজ শাওনের সৎ মা নিশি ইসলামের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিলেন আদালত। এছাড়া, পেশাগত অসদাচরণ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির (ডেজারশন) দায়ে ২০২৩ সালের দিকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছিল।
এতসব অভিযোগ ও সরাসরি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একজন পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি পাওয়ায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত পদোন্নতি বাতিল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।







