বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দল দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং তারা ফ্যাসিবাদী আচরণে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলেই বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোরআনের হাফেজদেরও ফ্যাসিবাদী কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নারীরা যখন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করতে সভা কিংবা গণসংযোগে যাচ্ছেন, তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে শহিদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সহিংস চরিত্রের পরিবর্তন ঘটাতে হলে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশ শাসনকারী আগের তিনটি দল বা তাদের কোনো নেতাই দাবি করতে পারবেন না যে তারা দুর্নীতি, অপশাসন ও চাঁদাবাজিমুক্ত ছিলেন। এ কারণেই জনগণ পরিবর্তন চায়।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ছয়টি ইসলামী দল, জুলাই যোদ্ধাদের দল এনসিপি এবং এলডিপিসহ ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই জোটের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা দলীয়করণের কোনো অভিযোগ নেই। আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে এমন একটি সুশাসিত সমাজ গড়া হবে, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষ সমান ইনসাফপূর্ণ অধিকার নিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা দোকানপাট, হাটবাজার, বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পোস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করেছে, তারাই এখন হুমকি দিচ্ছে যে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হবে না এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদেরও দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না, তাই কারা এসব চাঁদাবাজি ও হামলার সঙ্গে জড়িত, তা জনগণের জানা। অথচ তারাই এখন শান্তির বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছে।
নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর জেলা শাখার আমির ও জোটপ্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি ও জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, জেলা সহ-সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইউনুস হেলাল, সেক্রেটারি মো. শাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।







