বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার দেশটির বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি ২০২৬) মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি ডিক্রি জারি করে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিলুপ্ত হওয়া এসব দলের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুরকিনা ফাসোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমিল জারবো এই সিদ্ধান্তকে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনের’ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর একটি গভীর বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শেষে দেখা গেছে যে, দলগুলোর কার্যক্রম দেশে বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন সৃষ্টি করছিল। সরকারের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলোর অতিরিক্ত সংখ্যাধিক্য নাগরিকদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করেছে এবং সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করেছে।
২০২২ সালে ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত ছিল। তবে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি রাজনৈতিক দমন নয়, বরং জাতীয় ঐক্য রক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত একটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ।
বর্তমানে বুরকিনা ফাসো আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ সহিংসতার মোকাবিলা করছে। সরকারের যুক্তি অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা সংকটের মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করা জরুরি। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের আগে দেশটিতে ১০০টিরও বেশি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ছিল। নতুন এই ডিক্রির পর দলগুলোর অর্থায়ন ও পরিচালনা সংক্রান্ত সকল আইন বাতিল করার জন্য একটি বিল দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভায় পেশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।







