আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের মধ্য থেকে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট ইতিমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে। এই বিশাল সংখ্যক ব্যালট আসার মাধ্যমে নির্বাচনে প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
সালীম আহমাদ খান জানান, আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট সফলভাবে গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন ইতিমধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট দেওয়া শেষে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালটগুলো স্ব-স্ব দেশের ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৮টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।
প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ভেতরে অবস্থানরত বিশেষ শ্রেণির ভোটারদের (আইসিপিভি) জন্যও নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালট সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে। কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৭ জন ভোটার দেশে বসেই পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ১১ হাজার ১২২ জন ভোটদান সম্পন্ন করে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৯টি ব্যালট ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৬৭টি অভ্যন্তরীণ ব্যালট বুঝে পেয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি সব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগেই এই পোস্টাল ব্যালটগুলো চূড়ান্ত গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই নতুন ডিজিটাল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার ফলে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার হার আগের তুলনায় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।







