ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে তারা সেখানে জড়ো হন এবং এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করার জোর দাবি জানান। অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং অন্যতম সংগঠক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
যমুনার সামনে অবস্থানকালে ফাতিমা তাসনিম জুমা গণমাধ্যমকে বলেন, শরীফ ওসমান হাদির মতো একজন ত্যাগী নেতার হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তারা সরাসরি জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চান। তিনি অভিযোগ করেন যে, ইনকিলাব মঞ্চ বর্তমান সরকার, প্রশাসন ও সকল রাজনৈতিক দলকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু যখন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি উঠছে, তখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যথাযথ সহযোগিতা না করে রহস্যজনকভাবে হাত গুটিয়ে নিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সেই মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পার হয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা মূল হোতাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে না।







