ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই যমুনার সামনে সংগঠনটির একদল কর্মী-সমর্থক অবস্থান নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ঘিরে ফেলে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শত শত পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে এবং উচ্ছেদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক জরুরি বার্তায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হাদি হত্যার তদন্তভার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর না করা পর্যন্ত তারা সেখান থেকে সরবেন না। প্রয়োজনে জীবন দেবেন, তবুও অবস্থান ত্যাগ করবেন না বলে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ২০ থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারী সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে মাঝেমধ্যে স্লোগান দিচ্ছেন। পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে।
শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক ও নাশকতামূলক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ডে ১৭ জনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তাই তারা স্থানীয় তদন্তের ওপর আস্থা না রেখে আন্তর্জাতিক মানের ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে যমুনার সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি বেছে নিয়েছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় ঘোলাটে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







