জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন বা গণভোট ইস্যুতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত আইনগত ও বিধিগত বিষয় স্পষ্ট করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে তিনটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল, ভোটার ও কমিশনের মধ্যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা তাৎক্ষণিক সংকট সৃষ্টি না হয়—সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ও ইসির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে ইসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে—
১) গণভোটের পক্ষে প্রচার কত সময় পর্যন্ত চালানো যাবে এবং কখন তা বন্ধ করতে হবে,
২) ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের গণভোটের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতে বা জনমত গঠনের লক্ষ্যে আলাদা নির্বাচনি ক্যাম্প বা বুথ স্থাপন করা যাবে কি না,
৩) গণভোটের জন্য পৃথক পোলিং এজেন্ট নিয়োগের কোনো সুযোগ রয়েছে কি না।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে জানান, ভোটের আগে, ভোটগ্রহণের দিন এবং ভোটের পর গণভোটসংক্রান্ত করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনের দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ আমার দেশকে বলেন, গণভোট বিষয়ে কোন কোন বিষয়ে কমিশনের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে কমিশন থেকেই বিষয়টি জানা যেতে পারে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার অধ্যাপক আলী রীয়াজের দপ্তর থেকে ভোটের আগে ও পরে গণভোটসংক্রান্ত কার্যক্রমের আইনগত ব্যাখ্যা জানতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার একান্ত সচিব সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ আগে এই যোগাযোগ হয়।
কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। বিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। সে হিসেবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের পর কোনো ধরনের প্রচার চালানো যাবে না। গণভোটের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
ইসি আরও জানায়, ভোটগ্রহণের দিন কমিশনের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বুথ বা নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করা হয় না এবং গণভোটের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম থাকবে না। তবে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গণভোটের পক্ষে প্রচার বুথ স্থাপন করতে চাইলে তাতে কমিশনের আপত্তি নেই। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা সহায়তা করতে পারবেন না।
পোলিং এজেন্ট প্রসঙ্গে কমিশন জানায়, সংসদ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা যে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেন, তারাই গণভোট কার্যক্রমেও সহায়তা করতে পারবেন। গণভোটের জন্য আলাদাভাবে এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে গত ২৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এবং এর অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি জনগণকে গণভোট বিষয়ে সচেতন করতে পারবেন। তবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে সরাসরি প্রচার বা আহ্বান জানাতে পারবেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।







