বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে দেশে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, রাষ্ট্রপতি অপরাধ করলেও একইভাবে তার বিচার হবে। আইনের চোখে কেউই বিশেষ সুবিধা পাবে না।
শুক্রবার সকাল ১০টায় বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে নির্বাচনি প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আমরা বিজয়ী হলে দেশের প্রতিটি মানুষ বিজয়ী হবে। সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবার সমান অধিকার থাকবে এবং বিচারব্যবস্থা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে আর কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটবে না। অতীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কোনো মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানি শাসনামলের বৈষম্য থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং তার মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন সময়ে শোষণ ও নৈরাজ্যের কারণে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।
তিনি বলেন, “এই দেশে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও মজলুম রাজনৈতিক দল হলো জামায়াতে ইসলামী। বিচারিক হত্যাকাণ্ডসহ নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হলেও আমরা জনগণের স্বার্থে কথা বলা বন্ধ করিনি। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবর্তিত বাস্তবতায় আমরা কোনো নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করিনি।”
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে জড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ একটি বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হবে এবং আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে প্রত্যেককে তার ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ একটি বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোট দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হবে এবং আল্লাহ যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে প্রত্যেককে তার ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য একেএম ফখরুদ্দিন খান রাজী, বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন বাবর, জেলা আমির ও বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া এবি পার্টি, এনসিপি ও খেলাফত মজলিশের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু এবং বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।







