যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জেনেভায় অনুষ্ঠিত নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক এক সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি থমাস ডি ন্যান্নো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, চীন ২০২০ সালের জুনে এমন একটি পরীক্ষা চালিয়েছে যা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত অঙ্গীকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
গোপন পরীক্ষার অভিযোগ মার্কিন কর্মকর্তা থমাস ডি ন্যান্নো জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে যে চীন পারমাণবিক বিস্ফোরক পরীক্ষা চালিয়েছে। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২০ সালের ২২ জুন চীন একটি উচ্চ ক্ষমতার পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এমনকি তারা শত শত টন ক্ষমতাসম্পন্ন আরও নতুন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে।
বিস্ফোরণ আড়ালের কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) এই বিস্ফোরণগুলো গোপন রাখতে বিশেষ ‘ডিকাপলিং’ (Decoupling) পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে বড় ভূগর্ভস্থ গুহার ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে ভূকম্পন মাপক যন্ত্রে এর কম্পন খুব সামান্য অনুভূত হয় এবং বিশ্ববাসীর নজর এড়ানো যায়। ডি ন্যান্নোর মতে, চীন জানত যে এই পরীক্ষাগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, তাই তারা পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন করেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন চুক্তির দাবি এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ (New START)-এর মেয়াদ শেষ হয়েছে (৫ ফেব্রুয়ারি)। ট্রাম্প প্রশাসন এখন কেবল রাশিয়া নয়, বরং চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রিপক্ষীয় নতুন ও আধুনিক চুক্তির দাবি তুলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেছেন, চীনকে ছাড়া কোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য অনিরাপদ হবে।
চীনের প্রতিবাদ চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। জেনেভায় নিযুক্ত চীনের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত শেন জিয়ান মার্কিন অভিযোগকে ‘মিথ্যা আখ্যান’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, চীন সবসময় পারমাণবিক পরীক্ষার ওপর স্থগিতাদেশ মেনে চলেছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবলই আত্মরক্ষামূলক। তিনি উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পারমাণবিক আধিপত্য’ বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যদিও যুক্তরাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট তারিখ ও পদ্ধতি উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, তবে পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, ২০২০ সালের ওই সময়ে বড় ধরনের কোনো সন্দেহজনক ভূকম্পন তাদের নেটওয়ার্কে ধরা পড়েনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে এই ইস্যুতে উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে।
