আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত শুক্রবার বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থন থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তানদেরও দেশে ফিরে রাজনীতি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তারেক রহমান মনে করেন, শেষ পর্যন্ত কে রাজনীতি করবে বা ক্ষমতায় আসবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক দেশের সাধারণ জনগণ।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান উদারতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে বলেন, “যদি কাউকে মানুষ গ্রহণ করে এবং জনতা তাদের স্বাগত জানায়, তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।” দীর্ঘ প্রায় দুই দশক প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফেরা এই শীর্ষ নেতা আরও জানান যে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে থাকলেও এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন থাকলেও, রাজনৈতিক ময়দানে টিকে থাকা বা ফিরে আসা নির্ভর করবে মানুষের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।
নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান ‘ঐক্য সরকার’ গঠনের ধারণা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করলে সংসদে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দল থাকবে না, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় অন্তরায়। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি বরং একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের উপস্থিতিকে দেশের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন।
নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমান বিএনপির জয়ের ব্যাপারে দারুণ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। যদিও তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো আসন সংখ্যার কথা বলেননি, তবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানা গেছে যে, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা মাঠে নেমেছেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলো তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। তারেক রহমানের মতে, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং বিএনপি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে।
পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, তার সরকার কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়বে না। বরং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার মূল অগ্রাধিকার হবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্য থেকে যারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে জুতসই এবং লাভজনক প্রস্তাব নিয়ে আসবে, তাদের সঙ্গেই ব্যবসায়িক ও কৌশলগত সম্পর্ক দৃঢ় করা হবে বলে তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।







