সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, “খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর আর কোনো ঠিকানা নেই; বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীও বিশ্বাস করে বাংলাদেশই তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা।” শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে এসে দেওয়া এই ভাষণে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদল ও উন্নয়নমূলক একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানান।
নির্বাচনী জনসভায় এক দল আরেক দলের সমালোচনা করলে জনগণের কোনো লাভ হয় না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মানুষ জানতে চায় আমরা তাদের জন্য কী করব। এ সময় তিনি ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে। তিনি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে বিমানবন্দরের কাজ অনেক দূর এগিয়ে আছে এবং ক্ষমতায় গেলে এটি চালুর বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরাসরি আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে যাতে মায়েরা স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার পরিচালনা করতে পারেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। এছাড়া দুস্থ মানুষের এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণও জনগণের পক্ষ থেকে সরকার পরিশোধ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়কে কৃষিনির্ভর শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এখানে চা কারখানা ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ করা হবে। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে ঠাকুরগাঁওয়ে আইটি পার্ক বা হাব গড়ে তোলা হবে। এছাড়া এলাকায় একটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ করার বিষয়েও তিনি সদিচ্ছা প্রকাশ করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তাই আগামী বাংলাদেশে ধর্ম বা বর্ণ দিয়ে কাউকে বিচার করা হবে না; মেধা ও যোগ্যতাই হবে অগ্রগতির মূল মাপকাঠি। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে উপস্থিত জনতার কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট ও সমর্থন প্রার্থনা করেন।
