বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয় ঠেকাতে আবারও দাগি সন্ত্রাসীদের সক্রিয় করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিপুল অর্থ ব্যয় করে বোমা তৈরি ও অস্ত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। তবে ভোট কেটে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার স্বাধীনতা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দল চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে নারী ভোটারদের হিজাব খুলে নেওয়ার হুমকি, শারীরিক নির্যাতন, সভা-সমাবেশে হামলা এবং পীর-মুরুব্বিদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি ঘোষণা দেন, ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ী হলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করা হবে। ওই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, দলীয়করণ বন্ধ করবে এবং দেশে সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “এই নির্বাচন সহজে আসেনি। সহস্র মানুষের শাহাদাত, অসংখ্য গুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে জনগণ এই ভোটাধিকার অর্জন করেছে।”
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগের বায়তুল মোকাররমের লগি-বৈঠার ঘটনা থেকে শুরু করে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজ বাংলাদেশ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট দেওয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার পুলিশ ও প্রশাসন জনগণের পাশে দাঁড়াবে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচনে যেন কোনো এসপি, ডিসি, ওসি বা কনস্টেবলের জন্য ‘খাম’ রাখতে না হয়। অবৈধ অর্থের প্রলোভন এলে সন্তান, বাবা-মা ও দেশের মানুষের কথা মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আবার যদি ব্যালট বাক্স ভরে পাতানো নির্বাচনের চেষ্টা করা হয়, তবে যে গণবিদ্রোহ সৃষ্টি হবে, তা কামান, বুলেট বা বিদেশি শক্তি দিয়েও দমন করা যাবে না।
মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করে বলেন, একটি পক্ষ টেলিভিশন ও গণমাধ্যম দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে। মিডিয়া কোনো রাজনৈতিক দলের নয়—বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপিরও নয়। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। জুলাই আন্দোলনের সময় কিছু গণমাধ্যম জনগণের পক্ষে না দাঁড়ানোয় জনরোষের মুখে পড়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট একটি পবিত্র আমানত। একদিন টাকার বিনিময়ে ভোট দিলে পাঁচ বছর গোলামি করতে হবে, আর বিনা পয়সায় ভোট দিলে পাঁচ বছর বিনা পয়সায় সেবা পাওয়া যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ভোটের কথা বললেও গোপনে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়। “আমরা শুধু হাসিনার পরিবর্তন চাইনি, হাসিনার ব্যবস্থারও পরিবর্তন চেয়েছি,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি দল ব্যালটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আরেকটি দল বুলেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা বুলেট বিপ্লবের জবাব দেব ব্যালট বিপ্লব দিয়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আলিম মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন ও সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান।
