বিগত জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকে আবারও বিষাদময় করে তুলল আরও এক শহীদের মৃত্যু। দীর্ঘ ১৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন ৫ই আগস্ট গুলিবিলদ্ধ হওয়া আশরাফুল (৩২)। আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৮:০৩ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চূড়ান্ত দিনে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনের সময় আশরাফুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ ১৪ মাস যমে-মানুষে লড়াই করার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফেরার পর আশরাফুলকে সরাসরি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ সকালে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তার এই আত্মত্যাগ জুলাই বিপ্লবের ইতিহাসের পাতায় আরও একটি রক্তঝরা নাম যুক্ত করল।
আশরাফুলের মৃত্যুতে তার পরিবার এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শহীদ আশরাফুলের এই চলে যাওয়া আবারও মনে করিয়ে দিল সেই উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের দেওয়া অসীম আত্মত্যাগের কথা।
