জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) ‘মাস্টার রোল’ ও ‘পিয়ন’ পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হিসেবে জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল ফারাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গাড়িচালক শাহিন ও বাবুর নাম উঠে এসেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরের নাম ভাঙিয়ে এই ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ চালিয়ে আসছিল বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বেলাল হোসেন তার ভাগ্নেকে পিয়নের চাকরি পাইয়ে দিতে আড়াই লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন এই চক্রের হাতে। এই বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করতে তিনি তার বোনের তিনটি গরু বিক্রি করতে বাধ্য হন। ব্যাংক লেনদেনের নথিতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত গাড়িচালক বাবুর অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন ধাপে এই টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। চাকরি না হওয়ায় এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে এই দরিদ্র পরিবারটি।
নিয়োগ বাণিজ্যের অপর এক শিকার স্থানীয় বাসিন্দা হালিম মিয়া। তিনি তার মেয়ে জামাইয়ের চাকরির জন্য সুদে ঋণ নিয়ে ৯০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন গাড়িচালক শাহিন ও ছাত্রদল নেতা শাকিল ফারাবির হাতে। হালিম মিয়ার দাবি, শাহিন তাকে রাতে ফোন করে ‘কালকেই চাকরি হবে’ বলে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। পরে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা মাসের পর মাস শুধু তারিখ দিয়ে কালক্ষেপণ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। গাড়িচালক শাহিন দাবি করেছেন, তিনি কোনো টাকা নেননি এবং ভুক্তভোগী হালিম মিয়া সরাসরি ছাত্রদল নেতা শাকিল ফারাবির হাতেই টাকা তুলে দিয়েছেন। অন্যদিকে শাকিল ফারাবি প্রথমে সবকিছু অস্বীকার করলেও তার স্বাক্ষর করা তিনটি ১০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্প ভুক্তভোগীর কাছে পাওয়া গেছে, যা এই অনৈতিক লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি তৈরির শেষ মুহূর্তে জানা গেছে, চাপে পড়ে গত বুধবার রাতে শাকিল ফারাবি ভুক্তভোগী হালিম মিয়ার বাড়িতে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হালিম মিয়া পুরো টাকা দাবি করলে এক রহস্যময় ব্যক্তির ফোনে শাকিলকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। বর্তমানে এই চক্রের অন্যতম সদস্য গাড়িচালক বাবু কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পলাতক রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এবং প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, তাদের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায় ব্যক্তির। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বাইরে এখানে কোনো নিয়োগ হবে না এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব যীনাত মিয়া আজিজুল জানিয়েছেন, ব্যক্তির অপরাধের দায় সংগঠন নেবে না। তবে শাকিল ফারাবির মতো একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন তাদের শেষ সম্বল ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।







