আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জীবনযাপন এবং লন্ডনের বিলাসবহুল আবাসন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমানের নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে লন্ডনের অভিজাত এলাকায় তার জীবনযাপনের ব্যয়ের অসামঞ্জস্য নিয়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতার দাবি তোলা হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা কিংস্টনের ‘গলফ ক্লাব ড্রাইভ’ (Golf Club Drive) এবং সেখানে অবস্থিত ‘ক্রসওয়েজ’ (Crossways) নামক একটি বাড়ি ঘিরে এই প্রশ্ন উঠেছে। গুগল ম্যাপের তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় একেকটি বাড়ির মূল্য কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড। অভিযোগ উঠেছে, কর্মহীন হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমান ও তার পরিবার দীর্ঘ ১৭ বছর কীভাবে এমন ব্যয়বহুল এলাকায় বসবাস করেছেন, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা হলফনামায় নেই।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৩ সালে ‘কম্ব হিল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ (COOMBE HILL DEVELOPMENT LIMITED) নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় দেড় মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকা) মূল্যে বাড়িটি কেনা হয়। মজার ব্যাপার হলো, কোম্পানিটি খোলার সময় যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি ছিল তারেক রহমানের তৎকালীন ভাড়াবাড়ির ঠিকানা। বর্তমানে এই কোম্পানির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ও দিনাজপুর-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা (মাসে প্রায় ৫৬ হাজার টাকা)। অথচ লন্ডনের ওই বাড়ির সর্বনিম্ন ভাড়াও মাসে প্রায় ১০ থেকে ১৬ লাখ টাকা। এই বিশাল অংকের অর্থের উৎস কী এবং কেন তিনি সরাসরি নিজের নামে বাড়ি না কিনে কোম্পানির মাধ্যমে লেনদেন করেছেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিএনপি তার এই ব্যয় বহন করে কি না, সেটিরও কোনো উল্লেখ দলের বার্ষিক ব্যয়ের রিপোর্টে নেই।
আরও একটি গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে। লন্ডনের ‘হোয়াইট অ্যান্ড ব্লু কনসালটেন্টস লিমিটেড’ (WHITE AND BLUE CONSULTANTS LIMITED) নামক কোম্পানির রেজিস্ট্রেশনে তারেক রহমানকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ নির্বাচনি হলফনামায় তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অবৈধ।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম চেতনা ছিল রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে স্বচ্ছতা আনা এবং ‘বেগম পাড়া’ সংস্কৃতির অবসান ঘটানো। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের লন্ডনের জীবনযাপন ও আয়ের উৎসের অসামঞ্জস্য কেবল নৈতিক নয়, বরং আইনি জটিলতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাধারণ ভোটার ও নাগরিক সমাজ এখন বিএনপির শীর্ষ এই নেতার কাছ থেকে এসব সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি ও স্বচ্ছ জবাব প্রত্যাশা করছে।







