কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সঙ্গে আঁতাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একসময় দরিদ্র কৃষকপুত্র হিসেবে পরিচিত ‘মজি’ এখন অন্তত ৮টি বহুতল ভবন ও শত শত বিঘা জমির মালিক।
অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপি নেতারা যখন জেল-জুলুমের শিকার হচ্ছিলেন, তখন মজিবুর রহমান সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের ছত্রছায়ায় ‘রাজার হালে’ ছিলেন। স্থানীয়রা তাকে ঠাট্টা করে মোজাম্মেল হকের ‘মানসপুত্র’ বলে ডাকতেন। এই সুসম্পর্কের সুযোগে তিনি কালিয়াকৈরে টেন্ডারবাজি, ঝুট ব্যবসা এবং বনবিভাগের জমি দখল করে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালিয়াকৈর ও রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মজিবুরের ৮টি বহুতল ভবন রয়েছে, যার মধ্যে লতিফপুরে ১১ তলা বিশিষ্ট ‘এস.টি টাওয়ার’ অন্যতম। এছাড়া রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস-এ তার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। চতুর মজিবুর নিজের বেশিরভাগ সম্পদ স্ত্রী আজমেরী বেগম মুন্নি, শ্যালিকা এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামে গড়ে তুলেছেন।

মজিবুরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ আমলে তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত বিএনপি নেতাদের নাম ওসির কাছে পাঠাতেন এবং নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি আবারও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে লবিং শুরু করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেতে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতে রাজি বলে দম্ভোক্তি করছেন।

বিদেশেও মজিবুরের বিপুল সম্পদ থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তার ছেলে শাহরিয়ার আতিকুর সৌরভ কানাডায় এবং মেয়ে মাহফুজা আনজুম মুন আমেরিকায় পড়াশোনা করেন। অভিযোগ রয়েছে, ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার আড়ালে তিনি শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে তলব করলেও রহস্যজনক কারণে সেই তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, মজিবুর মূলত আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আজ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এলাকায় একটি ‘মজি বাহিনী’ নিয়ন্ত্রণ করছেন, যার ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না।







