সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তার দায়িত্ব পালনকালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে (ডিজিএফআই) ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত ছিল। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম-খুনের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
জেনারেল ইকবাল করিম বলেন, সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীর ছত্রছায়ায় ‘র’-এর সদস্যরা নিয়মিত ডিজিএফআই অফিস ভিজিট করত। এমনকি ডিজিএফআই-এর সাতটি মিটিং রুমের একটি তাদের কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে একটি তালিকা ডিজিএফআই-এর কাছে হস্তান্তর করত।
জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান র্যাবে কর্মরত কনিষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের বিপথগামী করার তিনটি লোমহর্ষক উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, একজন অফিসার তাকে বলেছিলেন যে তিনি ৬ জনকে হত্যা করেছেন এবং প্রতিটি হত্যার জন্য ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছিলেন। অপরাধবোধ থেকে সেই টাকা তিনি গ্রামের মসজিদে দান করে দেন।
আরেকটি ঘটনায় এক লে. কর্নেলকে ৬ জন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘ঊর্ধ্বতন অফিসারের আদেশ’ পালনের অজুহাত দেন। তখন ইকবাল করিম ভূঁইয়া তাকে মনে করিয়ে দেন যে, অন্যায় আদেশ পালন করা এবং নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধ।
তৃতীয় ঘটনায় তিনি একজন মেজরের কথা উল্লেখ করেন, যিনি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। এই মেজর পরে কর্নেল জিয়াউল আহসানের সাথে শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রেক্ষাপটে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। জেনারেল ইকবাল করিমের মতে, জিয়াউল আহসান ও তারিক সিদ্দিকীর প্রভাবে সেনাবাহিনীর কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছিল।







