আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের সোপান হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার সকালে সচিবদের সঙ্গে এক গেট-টুগেদার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশ পাল্টে যাবে এবং বাংলাদেশে আর কোনোদিন অপশাসন ফিরে আসবে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে সেগুলো ছিল ‘ভুয়া’। তবে এবারের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ এখন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের খুব কাছে পৌঁছে গেছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা তাদের ভূমিকাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করবে।
এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ড. ইউনূস। তিনি জানান, ভোটারদের সহায়তায় বিশেষ অ্যাপ, সিসিটিভি ক্যামেরা, ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন-৩৩৩’ চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর ফলে নির্বাচন স্বচ্ছ ও কারচুপিমুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর বহির্বিশ্বের আস্থা ফিরে এসেছে। শেখ হাসিনার আমলের তিনটি নির্বাচনে কোনো বৈধতা ছিল না বলেই তখন উল্লেখযোগ্য কোনো পর্যবেক্ষক আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ উত্তরোত্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ১৮ মাসে ১৩০টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য তিনি সচিবদের ধন্যবাদ জানান।







