ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের গুঞ্জন উঠেছে। তবে উপাচার্য জানিয়েছেন, এই বিষয়ে সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত করার বিষয়টি গত বছরের ডিসেম্বর মাসের আগের পুরনো আলোচনা।
এর আগে গুঞ্জন ছিল তাকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত করা হচ্ছে। ড. নিয়াজ আহমদ খান জানান, উপাচার্য পদে থাকার জন্য তিনি ডেনমার্কের সেই প্রস্তাব তখন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় ডেনমার্ক ছাড়াও ইরান ও সেনেগালের মতো দেশগুলোতে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে প্রাথমিক কথা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে তেহরান থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ আসার বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমেই প্রথম শুনেছেন।
এদিকে, গত মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান জাতীয় নির্বাচনের পরপরই উপাচার্যের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, অনেকদিন কঠিন পরিশ্রমের পর এখন তার বিশ্রামের প্রয়োজন। নির্বাচন শেষ হলে তিনি উপাচার্য পদ ছেড়ে নিজের মূল কর্মস্থল উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যেতে চান।
নির্বাচনের আগে কেন এমন ঘোষণা দিলেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর পদত্যাগের ঘোষণা দিলে মনে হতে পারে বিজয়ী দলের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা রয়েছে। তাই কোনো ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে এবং অবস্থান পরিষ্কার করতেই তিনি আগেভাগে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তবে সরকার চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়কে শূন্যতা থেকে বাঁচাতে আরও কিছু সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আরও তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগী—লামিয়া মোর্শেদ, লুৎফে সিদ্দিকী এবং হুসনা সিদ্দিকীকেও বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই নিয়োগের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
