সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘সিলটি দামান্দ’ হিসেবে পরিচিত দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর শ্বশুরের এলাকায় প্রায় একচ্ছত্র বিজয় অর্জন করেছে দলটি।
তারেক রহমানের আলোচিত ‘লাল গাড়ি’র প্রচারণা সিলেটে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী বাছাইয়ে কৌশলগত সাফল্যই এই বড় জয়ের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট বিভাগে একটি আসনও পায়নি। তবে তাদের জোটসঙ্গী খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়লাভ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, জোট-সমীকরণে আসন সমন্বয় ও প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে জামায়াত কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। যদিও কয়েকটি আসনে তাদের ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সিলেট-১ আসনকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে একটি রাজনৈতিক ‘মিথ’—এই আসনে যে দল জেতে, সরকার গঠন করে সেই দলই। স্বাধীনতার পর থেকে প্রচলিত এই ধারণা এবারও সত্য হয়েছে বলে আলোচনা চলছে।
পুণ্যভূমি-খ্যাত সিলেট-১ আসনে ১,৭৬,৯৩৬ ভোট পেয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিজয়ী হয়েছেন। আর জাতীয়ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি।
২২ জানুয়ারি সিলেটে প্রথম নির্বাচনী জনসভা এবং তার আগের দিন দুই ওলির মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু করেন তারেক রহমান।
সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে তিন জেলার সবগুলো (১৩টি) আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। সিলেট জেলার ছয়টির মধ্যে পাঁচটি আসন তাদের দখলে গেছে।
নির্বাচিতরা
সিলেট জেলা (৬টির মধ্যে ৫টি বিএনপি)
সিলেট-১: খন্দকার আবদুল মুক্তাদির (বিএনপি)
সিলেট-২: তাহসিনা রুশদীর লুনা (বিএনপি)
সিলেট-৩: এম এ মালিক (বিএনপি)
সিলেট-৪: আরিফুল হক চৌধুরী (বিএনপি)
সিলেট-৬: এমরান আহমদ চৌধুরী (বিএনপি)
সিলেট-৫: মুফতি আবুল হাসান (খেলাফত মজলিস)
সুনামগঞ্জ (৫টির সবকটিই বিএনপি)
সুনামগঞ্জ-১: কামরুজ্জামান কামরুল
সুনামগঞ্জ-২: নাসির উদ্দিন চৌধুরী
সুনামগঞ্জ-৩: কয়সর আহমেদ
সুনামগঞ্জ-৪: নুরুল ইসলাম
সুনামগঞ্জ-৫: কলিম উদ্দিন মিলন
মৌলভীবাজার (৪টিতেই বিএনপি)
মৌলভীবাজার-১: নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু
মৌলভীবাজার-২: শওকতুল ইসলাম শকু
মৌলভীবাজার-৩: এম নাসের রহমান
মৌলভীবাজার-৪: হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী
হবিগঞ্জ (৪টিতেই বিএনপি)
হবিগঞ্জ-1: ড. রেজা কিবরিয়া
হবিগঞ্জ-2: ডা. সাখাওত হাসান জীবন
হবিগঞ্জ-3: জি কে গউছ
হবিগঞ্জ-4: এস এম ফয়সল







