চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এবং শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩-৪ জন আহত হয়েছেন এবং দুটি বাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে এই আসনে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জামায়াত সমর্থকদের বিজয় উল্লাস চলাকালে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
তবে ঘটনার রেশ ধরে শুক্রবার সকালে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, এদিন সকালে বাবর আলী ও তাঁর চাচাতো ভাই সাদিকুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলায় সাদিকুল ইসলাম, তাঁর ছেলে ইউসুফ আলী এবং মেয়ে আদরী আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী বাবর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করার পরও নিজ দলের লোকজনই আমার বাড়িতে হামলা করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, জগন্নাথপুর ও পিয়ালীমারী কেন্দ্রে ভোটের ব্যবধান কম হওয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও তা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।







