ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তবে একই অনুষ্ঠানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও তা বর্জন করেছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপিরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিদ্যমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি বা শপথের বিধান নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী যদি কোনো সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হয়, তবে সেটিকে আগে বর্তমান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া এই পরিষদের সদস্যদের কে শপথ পাঠ করাবেন, সে বিষয়েও সংবিধানে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই সাংবিধানিক নিয়ম মেনে চলছে এবং অসাংবিধানিক কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না।
অন্যদিকে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ধারা অনুযায়ী এই শপথের আইনি ভিত্তি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সনদের ৭(১) নম্বর ধারায় বলা আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সাথে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর একই অনুষ্ঠানেই সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বাস্তবায়ন আদেশে আরও উল্লেখ আছে যে, যিনি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন, তিনিই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পরিচালনা করবেন। এছাড়া ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, এই সনদের অঙ্গীকারগুলো সরাসরি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দিয়ে এই সনদ ও সংস্কার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানানোর পর এই জটিলতা তৈরি হলো।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও অভিযোগ করেন যে, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের বিষয়টি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে কখনও আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণের জন্য ২৭০ দিনের সময়সীমা এবং তা না হলে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ সংবিধানে যুক্ত হওয়ার বিধানকে তিনি ‘অটোপাসের’ মতো হাস্যকর বিষয় বলে অভিহিত করেন।
বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গীরা জুলাই সনদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে একই দিনে সংসদ সদস্য এবং সংস্কার পরিষদ—উভয় পদের জন্যই শপথ গ্রহণ করেছেন। বিএনপির এই শপথ বর্জন এবং জুলাই সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
