বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর এখন সবার নজর বঙ্গভবনের দিকে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা বা পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।
মোঃ সাহাবুদ্দিনের বর্তমান অবস্থান: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। তবে গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে ছাত্র-জনতা। যদিও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিএনপি শুরু থেকেই তাঁর পদে থাকার পক্ষে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে।
পদত্যাগের ইচ্ছা ও প্রেক্ষাপট: গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর তিনি পদত্যাগ করতে চান। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করেছেন এবং নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সরে যেতে আগ্রহী। ফলে নতুন সরকার গঠনের পর তাঁর বিদায় এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন? বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে বড় পরিবর্তন আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক গুঞ্জন ও নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া দলের আরেক বর্ষীয়ান নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় আছে।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া: সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। বর্তমানে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন এবং নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। যদি রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তবে অভিশংসনের মতো জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদ কার্যকর হওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন সরকার তাদের রাজনৈতিক সংস্কারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
