দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর মাধ্যমে শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। আজ বুধবার থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এশার নামাজের পর তারাবি আদায় করবেন।
‘তারাবিহ’ শব্দটি আরবি ‘রাহাতুন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ বিশ্রাম বা আরাম। তারাবি নামাজ দীর্ঘ হওয়ায় প্রতি দুই বা চার রাকাত পরপর কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া হয় এবং দোয়া ও তসবিহ পড়া হয়। আরবিতে এটি ‘সালাতুত তারাবিহ’ নামে পরিচিত।
হজরত Abu Huraira (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, Muhammad (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে রোজা রাখে ও তারাবি আদায় করে, তারও পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৮০)
তারাবি নামাজের নিয়ম ও নিয়ত
রমজান মাসে এশার ফরজ ও সুন্নত আদায়ের পর দুই রাকাত করে তারাবি নামাজ পড়া হয়। তারাবির নিয়ত আরবিতে নিম্নরূপ—
نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকাআ’তাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাহ, আল্লাহু আকবার।
যদি জামাতে তারাবি আদায় করা হয়, তবে ‘সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তাআলা’ অংশের পর ‘ইকতাদাইতু বিহাযাল ইমাম’ যুক্ত করতে হবে।
চার রাকাত পর দোয়া
প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রামের সময় দেশে প্রচলিত একটি দোয়া পড়া হয়—
سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوْحِ
উচ্চারণ: সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুত, সুবহানা জিল ইজ্জাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রব্বুনা ওয়া রব্বুল মালায়িকাতি ওয়াল রূহ।
তারাবি শেষে মোনাজাত
তারাবি নামাজ শেষে মসজিদে বিশেষ মোনাজাতের প্রচলন রয়েছে। আরবিতে মোনাজাতটি হলো—
اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ بِرَحْمَتِكَ يَا عَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَا جَبَّارُ يَا خَالِقُ يَا بَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান নার। ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু, ইয়া গাফফার, ইয়া কারিম, ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিম, ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিক, ইয়া বার। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার। ইয়া মুজির, ইয়া মুজির, ইয়া মুজির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
রমজান মাসে তারাবি নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ পেয়ে থাকেন। তাই যথাযথ নিয়মে, একাগ্রতা ও খুশু-খুজু সহকারে তারাবি আদায় করা প্রত্যেক মুসল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।







