বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের একটি বিশাল মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে, যেখানে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
নতুন এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে রাজপথের পরিচিত দুই মুখ নুরুল হক নূর এবং জোনায়েদ সাকির অন্তর্ভুক্তি। পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এই দুই তরুণ নেতাকে সরকারে টেনে নিয়ে তারেক রহমান মূলত দীর্ঘদিনের রাজপথের মিত্রদের মূল্যায়নের বার্তা দিয়েছেন। এটি একদিকে যেমন আন্দোলনের বীরত্বপূর্ণ স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে জোটসঙ্গীদের নিয়ে পথচলার একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত শিক্ষার্থী নেতাদের দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়েছিল। তারা ৩০টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬টিতে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এই দলের নেতা নাহিদ ইসলাম কনিষ্ঠতম সংসদ সদস্য হিসেবে বিরোধী দলে যোগ দিচ্ছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নূর ও সাকিকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন এবং নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে গঠিত এই সরকারের সামনে এখন রাষ্ট্র সংস্কার এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।







