‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং এর কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। এতে সনদটি কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে এই ধরনের ‘জাতীয় সনদের’ কোনো আইনি ভিত্তি বা বিধান নেই। বিশেষ করে সনদে উল্লিখিত গণভোট এবং সংসদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবগুলো সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এই আইনি অসংগতির কারণেই তিনি আদালত সরণাপন্ন হয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টে এর ওপর শুনানি হতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্র রোধ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে এই সনদটি তৈরি করা হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর ২০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ সই করে। এতে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।
এই সনদের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ করা এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো। এছাড়া বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার ও নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে একটি ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদীয় নির্বাচনের দিনই এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর জনমত যাচাইয়ে দেশজুড়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় আগামী ২৭০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের ফলে এই সনদ বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া এখন নতুন মোড় নিল। আদালত যদি এই রিটের প্রেক্ষিতে কোনো স্থগিতাদেশ দেন, তবে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।







