বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ও চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নতুন সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি পুনরায় জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।
এহসানুল হক মিলন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের এক রূপকার হিসেবে পরিচিত। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে ‘নকল’ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেন। সে সময় বিভিন্ন কেন্দ্রে তাঁর আকস্মিক পরিদর্শনের ফলে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরে এসেছিল, যা তাঁকে ‘নকল প্রতিরোধ আন্দোলনের নায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ড. মিলনের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কারিগরি শিক্ষার ওপর পিএইচডি সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি ব্রুকলিন কলেজ ও বরো অব ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে অধ্যাপনাও করেছেন।
রাজনৈতিকভাবে ড. মিলন ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হলের ভিপি এবং ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবারের মতো কচুয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে কচুয়া উপজেলা একটি আধুনিক মডেল জনপদে রূপান্তরিত হয়। বৈশ্বিক শিক্ষার সাথে দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয় করার সক্ষমতা ও বিদেশের অভিজ্ঞতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বর্তমান সময়ে শিক্ষা কারিকুলাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ড. মিলনের ওপর জনপ্রত্যাশা আকাশচুম্বী। সচেতন মহলের ধারণা, তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করে সৃজনশীল পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন। তিনি মনে করেন, কেবল জিপিএ-৫ নয়, বরং কর্মমুখী ও প্রায়োগিক শিক্ষার মাধ্যমেই দক্ষ জাতি গঠন সম্ভব।







