ইরান তার মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওমান উপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে একটি বড় ধরনের যৌথ নৌ-মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সামরিক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল হাসান মাকসুদলুর বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ (ISNA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামরিক উত্তজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার এক জটিল আবহের মধ্যে এই মহড়াটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পরই এই ঘোষণা এল। ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেলেও সামরিক মহড়ার মধ্য দিয়ে তেহরান তার শক্তি প্রদর্শনের অবস্থান স্পষ্ট করছে।
মুখপাত্র হাসান মাকসুদলু জানান, এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ‘স্তোইকি’ (Stoikiy) নামক হেলিকপ্টারবাহী জাহাজ এই মহড়ায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। তবে মহড়াটি ঠিক কতদিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে গত সোমবার থেকে ইরান তার অভ্যন্তরীণ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে এই কার্যক্রম চলছে। মঙ্গলবার ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
চলমান এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে গত জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া ‘বারো দিনের যুদ্ধ’। ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বর্তমানে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় জলসীমায় বড় নৌবহর মোতায়েন করে রেখেছে এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছে।
তেহরান বলছে, চলমান আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যদিকে ওয়াশিংটন চাইছে, পারমাণবিক বিষয়ের পাশাপাশি ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি তাদের সমর্থন নিয়েও আলোচনার পরিধি বাড়ানো হোক।







