জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জামায়াত একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ (Shadow Cabinet) গঠন করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি দীর্ঘ যাত্রা। জনগণের স্বার্থে যেখানে প্রয়োজন সেখানে সরকারের সঙ্গে একমত হয়ে কাজ করা হবে, আবার জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ক্ষমতা কোনো বিশেষ সুবিধা নয় বরং এটি জনগণের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আমানত।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও সাম্প্রতিক গণভোটের মাধ্যমে জনগণ স্পষ্ট রায় দিয়েছে যে তারা এখনই রাষ্ট্রীয় সংস্কার চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে, যা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
নতুন সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সরকার পক্ষ থেকে জুলাই সনদের অঙ্গীকার পূরণ না করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁরা ব্যথিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী দ্রুতই জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে হাঁটবেন।
সংসদে শপথ গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক চিন্তাভাবনার পর জনগণের দাবি আদায়ে এবং ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করতেই তাঁরা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে এটিই সঠিক বলে তাঁরা মনে করছেন।
বিবৃতিতে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ পাবেন এবং নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে শান্তি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।







