বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার ড. হারুন আর রশীদকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পর্যায়ে তাঁকে নানাভাবে হয়রানি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় ড. হারুন আর রশীদ বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই মামলার বাদী হওয়ার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী একটি পক্ষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিল এবং প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি, যখন একজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক তাঁকে অফিসে আসতে নিষেধ করেন। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ড. হারুন অফিসে গেলে তাঁকে চূড়ান্তভাবে অপদস্থ করা হয়। এমনকি ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তরিকুল ইসলাম প্রশাসনিক কক্ষে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাঁর কক্ষ থেকে সরে যেতে বলেন।
একই দিন ড. হারুনকে রেজিস্ট্রার হিসেবে বরাদ্দকৃত গাড়ি ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হয়। জানানো হয় যে, তাঁর পরিবহন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনের এমন আচরণের মুখে তিনি বাধ্য হয়ে রিকশাযোগে অফিস ত্যাগ করে বাসায় ফিরে যান। এর পরের দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্যসহ একটি গোষ্ঠী গত কয়েক দিন ধরে ড. হারুনকে পরিকল্পিতভাবে অপমান ও মানসিক নিপীড়ন চালিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের একজন প্রত্যক্ষ সহযোগীকে এভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তাঁরা মনে করছেন, এটি জুলাইয়ের চেতনাকে নস্যাৎ করার একটি অপচেষ্টা।







