কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর ও রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে হলের ছাদে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের নাকের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং একাউন্টিং বিভাগের সৌরভ কাব্য। তারা সকলেই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেলেও সিনিয়র নেতাদের হাতেই তারা হামলার শিকার হন। আহত সৌরভ কাব্যর নাক ফেটে প্রচণ্ড রক্তপাত হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, যখন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে নিজের পছন্দের লোকজনকে সিট বরাদ্দ দেন। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ঘটনার দিন রাতে আতিকুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা হলের বিভিন্ন কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ধমক দিলে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব শুভর উপস্থিতিতেই আতিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। হামলায় আহত নিবিড় জানান, সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর তাঁর কলার ধরে চড় মারেন এবং বাধা দিতে গেলে আবির ও কাব্যকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ধাওয়া দিলে অভিযুক্তরা হল ছেড়ে পালিয়ে যান।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী হলে অছাত্র ও বহিরাগতদের তুলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল ছাড়াও বিজয় চব্বিশ হলে একই ধরনের দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. ম. জনি আলম এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, হল প্রশাসনের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রক্টোরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ জানিয়েছেন, বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধান করা হবে। তবে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।







