কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নোমান দাবি করেছেন, নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম ভাঙিয়ে তাকে এই হয়রানি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চকরিয়া পৌর এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
ব্যবসায়ী নোমান অভিযোগ করেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয়, গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের দিন প্রভাব খাটিয়ে দলবল নিয়ে নোমানের মালিকানাধীন ‘ইত্যাদি স্টোরে’ হামলা চালানো হয় এবং দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নোমান আরও জানান, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও নুরুল ইসলামের আত্মীয়দের দ্বারা তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন। সেই সময় মামলা ও জেল হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিএনপি নেতা মাস্টার সিরাজ উদ্দিনের মধ্যস্থতায় একটি আপসনামা বা অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর হয়েছিল। যেখানে নুরুল ইসলাম ভবিষ্যতে এই দোকান নিয়ে কোনো ঝামেলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, এখন নুরুল ইসলাম সেই অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করে দোকানটি দখলের পাঁয়তারা করছেন। বর্তমানে দোকানটি বন্ধ থাকায় তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি কোনো চাঁদাবাজি করেননি। তাঁর দাবি, দোকানটি আসলে তাঁর নিজের এবং তিনি সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। ব্যবসায়ীর আনা সকল অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, দেশে আর কোনো ‘মব কালচার’ বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। এই ঘোষণার পরপরই তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দলের নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।







