ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন গঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় দুজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত টেকনোক্র্যাট বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যিনি সরাসরি জননির্ধারিত প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য নন; বরং নিজ নিজ পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পান।
নতুন এই সরকারে টেকনোক্র্যাট কোটায় ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই কোটায় মো. আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
বাংলাদেশে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি সংবিধানের ৫৬ ধারা (উপধারা ১ ও ২) দ্বারা নির্ধারিত। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যার নয়-দশমাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যায়। অর্থাৎ বিশেষজ্ঞরা নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পান।
তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের আইনসভায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংবিধানের ৭৩ক ধারা অনুযায়ী, তাঁরা জাতীয় সংসদে বক্তৃতা দিতে এবং সংসদীয় কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ করতে পারলেও কোনো বিষয়ে ভোট প্রদান করতে পারবেন না। এছাড়া তাঁরা কেবল তাঁদের নিজ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়েই বক্তব্য রাখার অধিকার রাখেন।
সংসদ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আইনসভা হলেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রশাসনিক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পররাষ্ট্র বা কৃষির মতো বিশেষায়িত খাতগুলোতে পেশাদার ব্যক্তিত্বদের নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।







