সড়কে পরিবহনে ‘সমঝোতার’ ভিত্তিতে টাকা নেওয়াকে চাঁদাবাজি বলতে নারাজ নবনিযুক্ত সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একে ‘চাঁদাকে জাতীয়করণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলো নিজেদের কল্যাণে অলিখিত বিধির মাধ্যমে যে টাকা সংগ্রহ করে, সেটিকে তিনি চাঁদাবাজি মনে করেন না। তাঁর মতে, কেউ দিতে না চাইলে বা কাউকে দিতে বাধ্য করা হলে কেবল তখনই সেটিকে চাঁদা বলা যায়। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তোলা হলে তা কল্যাণমূলক কাজ হিসেবেই দেখা উচিত।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কি নবগঠিত সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর মাধ্যমে চাঁদাকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া হলো?” তিনি আরও বলেন, সূচনালগ্নেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন অবস্থান সরকারের গতিপথ নিয়ে সংশয় তৈরি করছে।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “ব্যাকরণ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সূচনাতেই বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে?” জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজির কালো থাবা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের পাশে জামায়াতে ইসলামী সর্বদা থাকবে এবং প্রয়োজনে লড়াই চালিয়ে যাবে।
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ‘গভীর হতাশাজনক’ এবং অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছে। টিআইবি বলছে, মন্ত্রীর এই সংজ্ঞা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের পরিপন্থী এবং এটি পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা ও অনৈতিকতাকে আরও উৎসাহিত করবে।
মন্ত্রী আরও স্বীকার করেন যে, ক্ষমতায় যে দল থাকে তাদের সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব পরিবহন খাতে বেশি থাকে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো চাপ প্রয়োগ করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। মালিকরা সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা তুললে সেখানে অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।







