মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১০ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে যেকোনো দিন অধিবেশন শুরু হতে পারে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বিধিবিধান ও প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্ব নির্ধারণ করা হবে।
বঙ্গভবন, সংসদ সচিবালয় এবং সরকারি-বিরোধী দলের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে প্রথম অধিবেশন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং রাষ্ট্রপতির দপ্তরে অধিবেশন আহ্বানের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সদস্যদের গেজেট প্রকাশিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন বসানো বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যেই প্রথম অধিবেশন আয়োজন করতে হবে।
সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন এবং প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে আসন্ন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিবেশন হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির।
এদিকে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ফলে প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। সিনিয়র কোনো সংসদ সদস্য বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। উল্লেখ্য, সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করিয়েছেন।
অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্বের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিনিয়র সদস্য সভাপতিত্ব করবেন—এমন নজির রয়েছে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।
পানি সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে একই দিনে ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হতে পারেন। স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মুলতবি থাকবে এবং রাষ্ট্রপতি নতুন স্পিকারকে শপথ পড়াবেন।
নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বিগত সংসদের পর থেকে জারি করা সব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী। দ্বিতীয় বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন এবং তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।







