নানান উত্থান-পতনের পর অবশেষে মূল্যায়িত হলেন খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তাকে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে সোমবার খুলনাসহ ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়রদের পদচ্যুত করে বিভাগীয় কমিশনারদের মাধ্যমে দায়িত্ব পরিচালনা করছিল। কেসিসির প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং খুলনাকে চাঁদাবাজি ও দখলমুক্ত করার অঙ্গীকার করেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন। তার পরাজয়ের পর দলীয় কোন্দল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তিনি ২০২১ সালের আগে দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে খুলনা-2 আসনে সংসদ সদস্য পদে এবং একই বছর কেসিসি মেয়র পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে।
তবে ২০০৮ সালে তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন তিনি।
২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে মহানগর ও জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণার পর তাকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তোলেন। পরে তাকে শোকজ ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এরপরও তিনি মাঠের রাজনীতি ছাড়েননি। যদিও দলীয় পদবি না থাকায় খুলনা-২ আসনের মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রধান তারেক রহমান সরাসরি তাকে কাজ করার নির্দেশ দেন এবং পরে মনোনয়ন দেন।
নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে দলীয় বিভক্তি ও দীর্ঘদিনের দূরত্বকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। তবে প্রশাসক পদে নিয়োগের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে মূল্যায়িত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন এবং কিছুটা অসুস্থ। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খুলনায় ফিরবেন। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তিনি দলীয় প্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে খুলনাবাসীর জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, খুলনাকে মাদকমুক্ত ও দখলমুক্ত করতে এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।
