অসহনীয় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যেতে বাধ্য হবেন। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসিসিআই সভাপতি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই চাঁদাবাজি চলছে, বরং ক্ষেত্রবিশেষে চাঁদার হার ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি এক দিনের জন্যও কমেনি।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই নেতা জানান, বর্তমানে কারখানায় ঢুকতে, অফিসে এমনকি রাস্তায় পণ্য পরিবহনের সময়ও চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদাবাজরা নিজেদের সরকারি দলের লোক পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে। শিল্প-কারখানার সুষ্ঠু উৎপাদনের জন্য সবার আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং এই মরণঘাতী চাঁদাবাজি বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।
অর্থনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তাসকীন আহমেদ বলেন, উচ্চ সুদহারের কারণে বর্তমানে ১৬-১৭ শতাংশ হারে ঋণ নিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর ওপর যুক্ত হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি। এমন প্রতিকূল পরিবেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও তলানিতে ঠেকেছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৪টি জরুরি পরামর্শ দেয় ডিসিসিআই। এর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সরকারি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহসভাপতি সালিম সোলায়মানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে সরকারের কাছ থেকে কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা প্রত্যাশা করেন।
