বরগুনার পাথরঘাটায় বিএফডিসি মৎস্য বাজারের চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাথরঘাটা পৌর শহরের বাইপাস সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়রা শামীম নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে মাছ কেনাবেচার ওপর নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। এই টাকার একটি বড় অংশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এনামুল হক ইমুকে অতিরিক্ত হিসেবে দিতে হতো। অন্য নেতাকর্মীরা এই অতিরিক্ত টাকার প্রতিবাদ করায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী ফোরকান জানান, দুপুর ২টার দিকে এনামুল হক ইমু ও শামীমসহ বেশ কয়েকজন চারটি মোটরসাইকেলে এসে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলায় কালু, সোহাগ, আবু সালেহসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে শামীমকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন এবং পরে পুলিশে দেন।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এনামুল হক ইমু। তিনি দাবি করেন, বিএফডিসি এলাকায় দীর্ঘদিনের মাদকের ছড়াছড়ি বন্ধ করতে তিনি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। এই অভিযানে তাঁর পরিবারের সদস্যও জড়িত ছিলেন। মাদক কারবারিরা তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এখন চাঁদাবাজির মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।







