ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) সব ধরনের রাজনৈতিক সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ। তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিলের ঘোষণার পরপরই এই জরুরি নোটিশ আসায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বিএনপির কার্যক্রম নিয়মিত চললেও কেবল শিবিরের কর্মসূচির ক্ষেত্রেই এই কঠোরতা দেখানো হচ্ছে।

গত রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢামেক ক্যাম্পাসে ইফতার ও মেহদি উৎসবের শিডিউল ঘোষণা করে ছাত্রশিবির। কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে আলোকসজ্জার কাজ শুরু করার কথা থাকলেও কলেজ প্রশাসন তাতে বাধা দেয়। এরপরই সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি নোটিশে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যতীত অফিস ভবন ব্যবহার করে সব ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সভা-সেমিনার নিষিদ্ধ করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ঢামেক একাডেমিক কাউন্সিল ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল সেখানে মিছিল, সভা ও সেমিনার পরিচালনা করে আসছে। এমনকি খোদ অধ্যক্ষ ডা. ফারুক আহাম্মদকেই গত ৮ নভেম্বর ছাত্রদলের একটি কর্মসূচি উদ্বোধন করতে এবং বিএনপির বিজয় উৎসবে অংশ নিতে দেখা গেছে।

ছাত্রশিবিরের ‘মেডিকেল জোন’ শাখার সেক্রেটারি ডা. জুলফিকার আলী অভিযোগ করেছেন, অধ্যক্ষকে প্রভাবিত করে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব এই নোটিশ করিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা’ নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালালেও প্রশাসন নীরব থাকে, অথচ রমজান উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠনমূলক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ জানিয়েছেন, মেডিকেল ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ। ছাত্রদলের প্রকাশ্য কার্যক্রম ও ব্যানারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি তাঁর নজরে পড়েনি। তিনি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রমাণ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।







