২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনাগুলোর দীর্ঘ দেড় বছর পর তদন্তে গতি ফিরছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এসব অপরাধের তদন্তে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, প্রতিটি ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করার জন্য বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
আন্দোলনের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের হিসেবে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও অনেক কর্মকর্তার মতে এই সংখ্যা আরও বেশি। সে সময় ডিএমপির ২১টি থানাসহ সারা দেশে ২১৬টি পুলিশি স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন সদস্যকে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটলেও এতদিন মাত্র ৫টি মামলা হয়েছিল এবং কেউ আটক হয়নি। এমনকি কারাগার ভেঙে বন্দি পালানোর ঘটনায় ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ও আলামত থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকারের অনীহার কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে ছিল। এখন পুলিশের একাধিক ইউনিট হামলার আগের ও পরের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অপরাধ কখনো তামাদি হয় না; তাই পুলিশ হত্যা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সাথে জড়িত ‘রাঘববোয়াল’দেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সহস্রাধিক পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে পিবিআই ও সিআইডি এসব মামলার তদন্ত করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে এজাহারের তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না, যা তাঁদের কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে।
সঠিক অপরাধী শনাক্ত করতে এখন নতুন করে কললিস্ট সংগ্রহ এবং ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করার কাজ চলছে। টেলিভিশনের ফুটেজ ও সংবাদপত্রের ছবি বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের খোঁজা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ঢাকা মহানগরীতেই সর্বাধিক ৩৩৩টি মামলা হয়েছে। নতুন সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, একদিকে যেমন নিরীহ মানুষ হত্যার বিচার হবে, তেমনি পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলার সাথে যুক্ত কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না।







