ঢাকার দুটি ও ঢাকার বাইরের দুটিসহ মোট চারটি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার, রেজাল্ট শিট ও নির্বাচনী সকল নথি হাইকোর্টের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন।
যেসব আসনের নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো— ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, গাইবান্ধা-৪ এবং শেরপুর-১। এর মধ্যে ঢাকা-৬ আসনটি বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের। শেরপুর-১ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এবং বাকি তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।
আদালতে শুনানির সময় জামায়াতের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, একই আসনে দুই ধরনের ফলাফল শিট পাওয়া গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল শিটে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কোনো অফিসিয়াল প্রতীক ছিল না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা কলমের বদলে পেনসিল দিয়ে লেখা হয়েছে এবং মোট বৈধ ভোটের ঘরে শূন্য (০) দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্র নম্বরসহ অনেক প্রয়োজনীয় তথ্যও শিটে অনুপস্থিত ছিল। এসব অভিযোগে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট হয়ে আদালত সব নথি কোর্টের কাস্টডিতে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আইনজীবীদের দাবি, উল্লেখিত তিনটি আসনেই ভোটের ব্যবধান ৫ হাজারেরও কম। পাশাপাশি কয়েক হাজার পোস্টাল ভোট হয় গণনা করা হয়নি, নয়তো উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল দেখানো হয়েছে। এসকল অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতেই ট্রাইব্যুনাল এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চে এই নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। আগামী ৩ মার্চ এবং ১০ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
