নরসিংদীতে কিশোরী হত্যা ও সারাদেশে নারী-শিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিবাদে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু বাংলাদেশে আর কখনো হাসিনাতন্ত্র ফিরতে দেব না। কেউ যদি হাসিনা হয়ে উঠতে চায়, তবে আমরা আবু সাঈদ হয়ে তাদের রুখে দেব।’ জুলাই বিপ্লবের পর নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
ভিপি কায়েম অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের ১২-১৩ দিন পার হলেও নাগরিকদের জীবন, সম্পদ ও মা-বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চারটি লাশ পড়েছে, সারাদেশে সম্পদ দখল চলছে। নরসিংদীতে কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভকারীরা ‘ধর্ষণ আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের বিচার চাই’—এমন বিভিন্ন বিপ্লবী স্লোগান দেন। তারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে খুনি হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার জোরালো দাবি জানান।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিএনপির একাধিক নেতা মিলিত হয়ে ধর্ষককে বাঁচাচ্ছে। মিডিয়াগুলো তারেক রহমানের হাঁটাচলার সংবাদ দিলেও বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে সময় পায় না। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক।’
সমাবেশে ডাকসু নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানান, পুলিশি রাষ্ট্র বা কোনো ধরনের জালেমতন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ছাত্রসমাজকে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই লড়াই জারি থাকবে।
