সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ কেবিনেট বৈঠকে নেওয়া হতো না। বড় বড় নীতিনির্ধারণী বিষয়ে আলোচনার জন্য কেবিনেটের বাইরে অন্য কোনো স্থানে আলোচনা হতো।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে, তবে সেখানে কারা ছিলেন তা তিনি নিশ্চিত নন। সাখাওয়াত হোসেনের মতে, যারা ভিন্নমত পোষণ করতেন, তাদের মতামত কেবল ছোটখাটো বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো এবং বড় সিদ্ধান্তে তাদের রাখা হতো না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল পুলিশ পুনর্গঠন। সে সময় থানা লুট ও অগ্নিসংযোগের কারণে পুলিশ মাঠে নামতে অনিচ্ছুক ছিল। তিনি আরও জানান, প্রায় চার হাজার রাইফেল লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি এখনও নিখোঁজ। এই অস্ত্রগুলো বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বুলেট ও অস্ত্র বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ভিডিওতে পুলিশের হাতে ‘টাইপ-৩৯’ রাইফেল দেখা গেছে, যা সাধারণ পুলিশের কাছে থাকা উচিত নয়। এই মারাত্মক অস্ত্রগুলো কবে এবং কেন পুলিশের হাতে দেওয়া হলো, তা তদন্ত হওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে টানা তিনটি নির্বাচনের পর মানুষ এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি আসন পাওয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিদেশি প্রভাব ও চুক্তি প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন জানান, বাণিজ্যসহ বেশ কিছু বিষয়ে বিদেশি চাপ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণ অনেকটাই ‘দিল্লিকেন্দ্রিক’ ছিল এবং সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পেছনেও এই প্রভাব স্পষ্ট ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।







