ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তাদের ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর প্রারম্ভিক পর্যায়ে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ইরানের ৪০ জন সিনিয়র কমান্ডারকে হত্যা করার দাবি করেছে। রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য বড় ধরনের হুমকি নস্যাৎ করতেই এই ‘আগাম হামলা’ চালানো হয়েছে।
আইডিএফ-এর তথ্যমতে, তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এবং একই সময়ে এই হামলা পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা পরিষদের সাতজন সদস্য যেখানে সমবেত হয়েছিলেন, সেখানেও সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। এই হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নবনিযুক্ত চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল।
এর আগে এক অভিযানে মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর মুসাভিকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, জেনারেল মুসাভি সরাসরি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তদারকি করতেন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার পেছনে তার প্রধান ভূমিকা ছিল। এছাড়া আইডিএফ এক পৃথক বিবৃতিতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকেও হত্যার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অভিযানের শুরুতেই ইসরায়েল পশ্চিম ও মধ্য ইরানের অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে। এর ফলে তেহরানের আকাশে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ও অবাধে অভিযান চালানোর পথ সুগম হয়েছে। শনিবার সকালে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী অভিযানে মূলত ইরানের কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এই বিশাল সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ইরানের প্রায় ৫০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হামলার প্রথম পর্যায়ে রাডার এবং বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা লক্ষ্য করা হলেও, দ্বিতীয় পর্যায়ে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এর ফলে ইরান যাতে ইসরায়েলে পাল্টা কোনো বড় হামলা চালাতে না পারে, সেই পথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
হামলার পরিধি বিস্তৃত করে ইরানের পবিত্র নগরী কোমের কাছে অবস্থিত একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত ছিল। এই অভিযানের সমান্তরালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি সমন্বিত হামলা শুরু করেছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার প্রতিবাদে ইরানও পাল্টা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেও পুরো ইসরায়েল জুড়ে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজতে শোনা গেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি চলছে। তবে ইসরায়েল মনে করছে, প্রথম মিনিটের ‘ডেকাপিটেট স্ট্রাইক’ বা শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে তারা ইরানের কমান্ড চেইন ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে।







