দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে। এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর দেশের রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বা বিপিএম-৬ (BPM6) অনুযায়ী বর্তমানে দেশের প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রায় ৩৮ মাস আগে তথা ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর এই হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার।
রিজার্ভের এই শক্তিশালী অবস্থানে ফেরার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ। গত দেড় বছর ধরেই প্রতি মাসে গড়ে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড। এর পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বড় অবদান রেখেছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কয়েক দফায় মোট ৪ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। শুধু সোমবারই ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০৯ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে, যা সরাসরি রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনা, ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের সমন্বিত প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
