মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে মোতায়েন করা মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা ‘ডিফেন্সিভ অ্যাসেট’-এর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা ‘ইউএস ফোর্সেস কোরিয়া’ (USFK)-এর গুনসান মিলিটারি বেস থেকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স (Patriot Air Defense), থাড (THAAD) মিসাইল সিস্টেম এবং এমকিউ-৯ রিপার (MQ-9 Reaper) ড্রোনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসা হবে। মূলত ইরানের সম্ভাব্য পাল্টাপাল্টি হামলা থেকে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের রক্ষা করতেই এই ‘স্ট্র্যাটেজিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা কৌশলগত নমনীয়তা নীতি গ্রহণ করেছে পেন্টাগন।
দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্স রিসার্চ ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল সিন জং-উ এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিমান হামলা বা ‘এয়ার ক্যাম্পেইন’ চালিয়ে যেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে তাদের এই অ্যাসেটগুলো সরাতে হবে। তিনি গত বছরের ‘১২ দিনের যুদ্ধে’র উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময় প্রায় ১৫০টি থাড মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে এখন বড় ধরনের মজুদ সংকট তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজির সিনিয়র ফেলো সেওল গুইন সতর্ক করে বলেছেন, গুনসান বা সেওংজু থেকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সরিয়ে নিলে দক্ষিণ কোরিয়া নিজেই বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত ব্যালিস্টিক মিসাইল হুমকির মুখে প্যাট্রিয়ট ও থাড সরিয়ে নেওয়া সিউলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বিপদ বয়ে আনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে তারা মার্কিন জোটের অংশীদার হিসেবে সহায়তায় আগ্রহী, অন্যদিকে নিজেদের আকাশপথ অরক্ষিত হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
